একটি মন্ডলী স্থাপনের উদ্যোগ হল একটি নেতৃত্ব প্রদানের আন্দোলন – ভাগ ১
– স্ট্যান পার্কস্ দ্বারা লিখিত –
আজকের দিনে যদি আমরা জগতের দিকে তাকাই, তাহলে দেখব যে সবচেয়ে গতিশীল মন্ডলী স্থাপনের আন্দোলন সেই সমস্ত স্থানে গড়ে উঠেছে যে অঞ্চলগুলি দারিদ্রতা, বিপদ, অশান্তি ও নির্যাতনে পরিপূর্ণ এবং যেখানে খ্রীষ্টিয়ানদের সংখ্যা অত্যন্ত স্বল্প পরিমাণ। তুলনামূলকভাবে, যে সমস্ত স্থানে শান্তি, সম্পদ, সুরক্ষা এবং অধিক খ্রীষ্টিয়ানদের বসবাস, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই সমস্ত অঞ্চলের মন্ডলীগুলি দুর্বল এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মন্ডলীগুলি ধবংসও হয়ে যাচ্ছে।
কেন?
সঙ্কটপূর্ণ অবস্থা আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে বাধ্য করে। আমাদের সেবাকার্য্যে যখন অভাব থাকে তখন আমরা নিজেদের অনষ্ঠানের উপরে নির্ভর না করে, ঈশ্বরের শক্তির উপরে নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হই। কেবলমাত্র কয়েকজন খ্রীষ্টীয়ানের উপস্থিতির অর্থ এই নয় যে সেই মন্ডলী শক্তিশালী হবে। ইহা প্রমান করে যে কেবলমাত্র বাইবেলই হল আমাদের সমস্ত কৌশল এবং নীতির প্রধান উৎস।
পূর্ববর্তী বিদ্যমান মন্ডলীগুলি ঈশ্বরের মণ্ডলীর এই নতুন আন্দোলন থেকে কি কি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে? আমরা বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি (গ্রহণ করা উচিত); সেই শিক্ষাগুলির মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা সরাসরি নেতৃত্ব প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। বন্ধ্যা স্থানগুলিতে শষ্যচ্ছেদনের জন্য আমাদের উপযুক্ত শ্রমিক খুঁজতে হবে, যেভাবে নতুন বিশ্বাসীরা জাগ্রত হয় এবং তাদের পরিচিত অবিশ্বাসী মানুষদেরকে খ্রীষ্টের পথে চলার জন্য পরিচালনা করে।
বিভিন্ন দিক থেকে, সি পি এম বাস্তবিক ভাবে মন্ডলীর নেতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবন তাদেরকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে উন্নত করে। বিভিন্ন স্থানে একটি একটি করে মন্ডলী স্থাপন করা এবং একটি আন্দোলনের দ্বারা অনবরত মন্ডলী স্থান করার মধ্যে কি পার্থক্য রয়েছে? সাধারণত ইহা হল নেতৃত্বের উন্নতি। যতই সংখ্যক মন্ডলী স্থাপন হোক না কেন, যদি স্থানীয় সংস্কৃতি থেকে মন্ডলীর জন্য নেতা প্রস্তুত না করা হয়, তাহলে মন্ডলী সর্বদা বিদেশী হিসাবেই চিহ্নিত হবে। সেই মন্ডলী খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে এবং প্রারম্ভিক নেতাদের কাজ সীমিত হয়ে গেলে সেই মন্ডলীর বৃদ্ধি রদ হয়ে যাবে।
উত্তর ভারতের প্রায় ১০ কোটি ভোজপুরী ভাষী মানুষের মধ্যে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যিনি সর্বোত ভূমিকা পালন করেছেন, তার নাম ভিক্টর জন। পূর্বে ভারতবর্ষের এই অঞ্চলকে বলা হত “আধুনিক মিশনের কবরস্থান”। জন নির্দিষ্ট করে বলেছেন যে যদিও ভারতবর্ষে প্রেরিত থোমার সময় থেকে শুরু করে প্রায় ২০০০ বছর ধরে মন্ডলী কার্যকরী আছে, তথাপি এখনও ৯১% ভারতবাসী সুসমাচারের প্রতি প্রবেশগম্যতা লাভ করেনি! তিনি মনে করেন ইহার প্রধান কারণ হল মন্ডলীর নেতাদের উন্নতির অভাব।
জন বিবৃতি দিয়েছেন যে চতুর্থ শতকের প্রারম্ভে, প্রাচীন পাশ্চাত্য মন্ডলী আরাধনার জন্য সিরিয়া ভাষীর নেতাদের ব্যবহার করতেন, যার কারণে কেবলমাত্র সিরিয়া ভাষীরাই তাদের দ্বারা পরিচালিত হতেন। ষোড়শ শতকে ক্যাথোলিকরা স্থানীয় ভাষাকে ব্যবহার করেছিলেন কিন্তু তারা কখনই স্থানীয় ভাষার লোকদের নেতা হিসাবে ব্যবহার করার বিষয়ে চিন্তা করেননি। অষ্টাদশ শতকের প্রারম্ভে, প্রোটেস্টান্টরা স্থানীয় নেতাদের নিযুক্ত করেছিলেন কিন্তু তাদের প্রশিক্ষিত করার জন্য পাশ্চাত্য দেশগুলির প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, যার ফলে স্থানীয় নেতারা কার্যকারী ভাবে সেই প্রশিক্ষণকে ব্যবহার করে সফলতা লাভ করতে পারেননি। “এই বিষয়ে ব্যাপক সংঘাতের পরে স্বদেশীয় নেতাদের অপসারন করা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে কোন স্থানীয়, জাতীয়, অথবা স্থানীয় কর্মচারীদের কখনই নেতা হিসাবে নিযুক্ত করা হবে না – এই মর্যাদা কেবলমাত্র শ্বেত গাত্রবর্ণদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। মিশনারী সংস্থাগুলি স্বদেশীয় নেতাদের প্রতিস্থাপন করার বিষয়ে অধিক ব্যস্ত হয়ে পড়ে কিন্তু তারা মন্ডলী বৃদ্ধির বিষয়ে মনোযোগ প্রদান করেনি”।
আজকের মন্ডলীগুলির ক্ষেত্রে প্রায়শই – কোন মিশন ক্ষেত্র হোক কিম্বা গৃহেতে হোক – কোন সংস্থা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরাও কেবলমাত্র পূর্ববর্তী নেতাদের প্রতিস্থাপনের বিষয়েই মনোযোগ দিয়ে থাকি, কিন্তু আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষ্য রাখি না যে ঈশ্বর সেই সেবাকার্য্যের মধ্যে থেকে নতুন শিষ্য এবং মন্ডলীর জন্ম দিচ্ছেন কিনা। হারিয়ে যাওয়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোর জন্য নতুন মন্ডলী অত্যন্ত কার্যকারী – ইহার যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্বেও, অধিকাংশ মন্ডলী নতুন মন্ডলী স্থাপনের প্রতি জোর না দিয়ে কেবলমাত্র একটি বৃহৎ মণ্ডলী স্থাপনের চিন্তা করে। বাইবেল কলেজ গুলিও এই একই চিন্তাধারাকে শক্তি জুগিয়ে যুব নেতাদের শিক্ষা দিচ্ছেন যে কিভাবে তারা পূর্ব-বিদ্যমান মন্ডলীগুলিকে লালন পালন করবেন। তাদেরকে কখনই সম-পরিমাণ উদ্যোগ নিয়ে অথবা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নতুন মন্ডলী স্থাপনের বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয় না। আমরা সেই সমস্ত আত্মা যারা নরকের আগুনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের রক্ষা করার জন্য সময় অতিবাহিত না করে নিজেদের সমস্ত উৎস এবং সময়কে ব্যবহার করি কেবলমাত্র নিজেদের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনয়ন করার উদ্দেশ্যে। (সমগ্র পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় ৩৩% হল খ্রীষ্টিয়ান, কিন্তু এদের মধ্যে ৫৩% মানুষ নিজেদের আয়ের ৯৮% ব্যবহার করে নিজেদের স্বাচ্ছন্দের জন্য।)
আমরা যখন আধুনিক সি পি এম-এর দিকে দেখি, নেতাদের বৃদ্ধি এবং উন্নতির বিষয়টি থেকে আমরা বেশকিছু স্পষ্ট নীতি উপলব্ধি করতে সক্ষম হই। যেকোন সেবাকার্য্যের শুরুতেই থাকে নেতাদের প্রস্তুতি এবং উন্নত করা। সুসমাচার প্রচার, শিষ্যত্ব এবং মন্ডলী স্থাপনের জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে সেটি হল নেতাদের প্রস্তুতি এবং উন্নতি প্রদান। এই পদ্ধতি নেতৃত্বপ্রদানকে আরো উন্নত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট মঞ্চ প্রস্তুত করে দেয়।
দর্শনঃ ঈশ্বরের-আকৃতির
সি পি এম-এ কার্যকরী ব্যক্তিরা শুরুতেই বিশ্বাস করে যে সমগ্র হারিয়ে যাওয়া মানুষ, দলগোষ্ঠী, শহর এবং দেশের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। “আমি কি করতে পারি?” ইহা জিজ্ঞাসা না করে, তারা জিজ্ঞাসা করেঃ “একটি মণ্ডলী স্থাপনের আন্দোলন শুরু করার জন্য কি করা উচিত?” ইহা তাদের লক্ষ্যকে এবন নতুন বিশ্বাসীদের লক্ষ্যকে ঈশ্বরের প্রতি স্থির রাখতে সাহায্য করে। ইহা তাদেরকে ঈশ্বরের প্রতি নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য করে যেন অসম্ভব বিষয়গুলি সম্ভব হতে পারে। প্রাথমিক ভাবে কিছু বহিরাগত লোকেরা ঈশ্বরের রাজ্যের দর্শনকে সেই সমস্ত সহযোগী কর্মীদের প্রতি হস্তান্তর করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যারা শষ্যচ্ছেদনের কাজে যোগ দেবে। বহিরাগত বিদেশী মিশনারীদের উচিত স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতিবেশী কোন ব্যক্তি অথবা স্বদেশীয় কোন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা যারা জাগ্রত হবে এবং নিজেদের অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া লোকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রারম্ভিক প্রচেষ্টা শুরু করবে। যখন আভ্যন্তরীণ নেতারা উদ্ভূত হয় এবং সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়, তখন তারা ঈশ্বরের-আকৃতির দর্শনকে “ধরতে” সক্ষম হয়।
প্রার্থনাঃ ফল লাভের ভিত্তিমূল (যোহন ১৪:১৩-১৪)
একটি বৃহৎ সি পি এম-এ কার্যকারী মণ্ডলী স্থাপনকারীদের মধ্যে একটি সমীক্ষা করে দেখা যায় তারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন জাতি বা গোষ্ঠীর অন্তর্গত। কিন্তু তাদের মধ্যে একটি সমরূপ প্রধান বিষয় লক্ষ্য করা যায়ঃ তারা প্রত্যেকেই দিনে প্রায় ২ ঘন্টা প্রার্থনাতে সময় অতিবাহিত করে এবং সপ্তাহে একবার ও মাসে একবার নিজেদের সহকর্মীদের সাথে উপবাস প্রার্থনায় জোগ দান করে। এই সহকর্মীরা কেউই বেতনভোগী নয়। তারা প্রত্যেকেই ‘সাধারন’ জাগতিক কর্মে লিপ্ত কিন্তু তাদের প্রার্থনার জীবনের ফলে ঈশ্বরের রাজ্যের ফল তাদের জীবনে যুক্ত হয়ে আছে। মন্ডলী স্থাপনকারীদের প্রার্থনাপূর্ণ জীবনের এই অঙ্গীকার পরবর্তী নূতন বিশ্বাসীদের জীবনে অবস্থান্তরিত করা হয়।
প্রশিক্ষণঃ প্রত্যেকেই প্রশিক্ষিত
ভারতবর্ষের একটি সি পি এম নেতাদের প্রশিক্ষণ শিবিরে একজন স্ত্রীলোক বলেন, “আমি জানি না যে আমাকে কেন মন্ডলী স্থাপনের বিষয়ে বক্তৃতা পেশ করতে বলা হয়েছে। আমি লিখতেও জানিনা এবং পড়তেও পারি না। আমি কেবল জানি কিভাবে অসুস্থদের সুস্থ করতে হয়, মৃতকে জীবন দিতে হয় এবং বাইবেলের বিষয় লোকদের শিক্ষা দিতে হয়। আমি এখনও পর্যন্ত কেবলমাত্র ১০০ টি মন্ডলী স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।” আমরা কি প্রত্যেকেই চাই না এই স্ত্রীলোকের মত “বিনয়ী” হতে?
সি পি এম গুলিতে প্রত্যাশা করা হয় প্রত্যেকেই মন্ডলী স্থাপনের জন্য প্রশিক্ষিত এবং তারা যত শীঘ্র সম্ভব অন্যদেরকেও প্রশিক্ষণ প্রদান করতে শুরু করে। একটি দেশে, যখন আমরা নেতাদের প্রশিক্ষিত করার প্রচেষ্টা শুরু করি, নিরাপত্তা দায়িত্ব-প্রাপ্ত লোকেরা আমাদের কেবলমাত্র ৩০ জন নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি প্রদান করে। কিন্তু এই ৩০ জনের দল সেই একই শিক্ষা ব্যবহার করে প্রত্যেক সপ্তাহে ১৫০ জন নতুন নেতাদের বাইবেল-ভিত্তিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করে তুলছে।
শিক্ষাঃ প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত ম্যানুয়ালটি হল বাইবেল
অপ্রয়োজনীয় সমস্যা থেকে বিরত থাকতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়টি হল বাইবেলকেই প্রশিক্ষণের ম্যানুয়াল হিসাবে ব্যবহার করা। সিপিএম নেতারা অন্যান্য নেতাদের প্রস্তুত করার জন্য নিজেদের জ্ঞানের উপরে নির্ভর না করে বাইবেল এবং পবিত্র আত্মার উপরে সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল থাকে। যখন নতুন বিশ্বাসীরা প্রশ্ন করে, তখন মন্ডলী স্থাপনকারীরা সাধারণত উত্তর দেন, “বাইবেল এই বিষয়ে কি শিক্ষা দেয়?” তখন তারা নতুন বিশ্বাসীদেরকে কেবলমাত্র তাদের মতামত প্রমাণ করার জন্য একটি শাস্ত্রাংশ নয় কিন্তু বিবিধশাস্ত্রের অংশ পাঠের মাধ্যমে তাদেরকে উত্তর খুঁজে পেতে পরিচালনা করে। একটি ভিত্তিমূলক সত্য আমরা খুঁজে পাই যোহন ৬:৪৫ পদ থেকেঃ “তাহারা সকলে ঈশ্বরের কাছে শিক্ষা পাইবে। যে কেহ পিতার নিকটে শুনিয়া শিক্ষা পাইয়াছে, সেই আমার কাছে আইসে”। মণ্ডলী স্থাপনকারীরা কিছু কিছু সময়ে উপদেশ দিয়ে থাকে অথবা তথ্য সরবরাহ করে থাকে, কিন্তু তার প্রধান প্রচেষ্টা হল যেন একজন নতুন বিশ্বাসী নিজেরাই বাইবেল থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় উত্তর খুঁজে পেতে সক্ষম হয়। শিষ্য তৈরি করা, মন্ডলী গঠন করা এবং নেতাদের প্রস্তুত করা, এই সমস্ত কিছুই বাইবেল-কেন্দ্রিক। ইহার ফলে কার্যকারী শিষ্য, মন্ডলী এবং নেতাদের প্রস্তুত করা সম্ভব হয়।
এই পোস্টের ভাগ ২-এ, আমরা পরিচর্য্যার অতিরিক্ত নিদর্শনগুলি দেখবো যা আন্দোলনের মধ্যে নেতৃত্বের চলমান উন্নতির মঞ্চ তৈরী করে৷
এই উপাদানটি ২৪:১৪ বই-এর পৃষ্ঠা ৯৬-১০০-থেকে নেওয়া হয় – সমস্ত লোকেদের পক্ষে একটি সাক্ষ্য, ২৪:১৪ থেকে বা অ্যামাজন-এ উপলব্ধ৷ এটি মিশন ফ্রন্টীয়ার্স–এর জুলাই–আগষ্ট ২০১২ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের লেখক দ্বারা কৃত একটি সংশোধন, www.missionfrontiers.org।
